মূল বিষয়বস্তুতে যান মূল বিষয়বস্তুতে যান
নির্বাহী গোয়েন্দা

এলবিডব্লিউ বনাম নট আউট: ৫ শর্তে সিদ্ধান্ত

ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ হওয়ার মূল শর্ত হলো বলটি ব্যাটে লাগার আগে প্যাড বা শরীরে আঘাত করবে, বলটি বৈধ হতে হবে, এবং আম্পায়ারের বিচারে সেটি উইকেটে লাগত। ক্রিকেট আইন ৩৬ অনুযায়ী, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে স...

২০ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
এলবিডব্লিউ বনাম নট আউট: ৫ শর্তে সিদ্ধান্ত

এলবিডব্লিউ বনাম নট আউট: ৫ শর্তে সিদ্ধান্ত

ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ হওয়ার মূল শর্ত হলো বলটি ব্যাটে লাগার আগে প্যাড বা শরীরে আঘাত করবে, বলটি বৈধ হতে হবে, এবং আম্পায়ারের বিচারে সেটি উইকেটে লাগত। ক্রিকেট আইন ৩৬ অনুযায়ী, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে স্পর্শ করলে সাধারণত এলবিডব্লিউ হয় না; বল প্রথমে ব্যাটে লাগল কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বল পিচ করার স্থান, আঘাতের সময় উইকেটের সঙ্গে শরীরের অবস্থান, ব্যাটসম্যান শট খেলেছিলেন কি না এবং বল স্টাম্পে আঘাত করত কি না—এই চারটি বিষয় সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউ নয়, তবে বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে আঘাত করলে এবং ব্যাটসম্যান শট না খেললে নিয়ম আলাদা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ডিআরএসে বল-ট্র্যাকিং এই পূর্বাভাস যাচাই করে। তাই আপিলের আগে পাঁচটি শর্ত ক্রমানুসারে মিলিয়ে দেখুন।

ধুলোমাখা ক্রিকেট পিচে ব্যাটসম্যানের প্যাডে বল আঘাত করছে, পিছনে আম্পায়ার মনোযোগী

এলবিডব্লিউ বা লেগ বিফোর উইকেটকে অনেক দর্শক শুধু “প্যাডে বল লাগলেই আউট” বলে মনে করেন। এই ধারণাটি ভুল, কারণ প্যাডে আঘাত লাগা একা যথেষ্ট নয়; আইন ৩৬-এর একাধিক শর্ত একসঙ্গে পূরণ হতে হয়। বোলিং বিশ্লেষণ-এর পাঠকদের জন্য বিষয়টি বোঝার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ঘটনাটিকে পাঁচটি আলাদা প্রশ্নে ভাগ করা—বল বৈধ ছিল কি না, ব্যাটে আগে লাগল কি না, কোথায় পিচ করল, কোথায় আঘাত করল এবং স্টাম্পে লাগত কি না। ক্রিকেটের মৌলিক নিয়মের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা এই পদ্ধতি মাঠের সিদ্ধান্ত, টেলিভিশন রিপ্লে এবং ডিআরএস—তিন ক্ষেত্রেই কাজে লাগে।

আরও পরিষ্কারভাবে নিয়মগুলো বুঝে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে নিচের নির্দেশনাটি অনুসরণ করুন।

আরও জানুন

ধাপ ১: বলটি বৈধ কি না যাচাই করবেন?

এলবিডব্লিউ বিবেচনার প্রথম ধাপ হলো বলটি বৈধ ডেলিভারি কি না নির্ধারণ করা। নো-বল হলে ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ আউট দেওয়া যায় না, যদিও একই বলে প্যাডে আঘাত লেগে স্টাম্প ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকুক। আম্পায়ার প্রথমে বোলারের সামনের পা, পপিং ক্রিজ, বল ছোড়ার বৈধতা এবং ডেলিভারির অবস্থান দেখেন; এরপরই এলবিডব্লিউ আপিলের আইন প্রয়োগ করেন।

বোলারের পা ক্রিজের ওপরে পড়া, বল দুবার বাউন্স করা বা কোমরের ওপরে বিপজ্জনক ফুল টস—এসব ক্ষেত্রে আলাদা নো-বল বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সাধারণ দর্শকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, নো-বল ঘোষণার পর এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের দরজা বন্ধ থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের আইন ও খেলার বিধি এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ৩৬ এই কাঠামোই অনুসরণ করে। ম্যাচে বড় ভুল এড়াতে স্কোরার, আম্পায়ার এবং সম্প্রচার বিশ্লেষকরা প্রথমে নো-বল সংকেত নিশ্চিত করেন, তারপর এলবিডব্লিউ নিয়ে আলোচনা করেন।

  • নো-বল হলে এলবিডব্লিউ নয়।
  • বৈধ বল হলে পরের চারটি শর্ত পরীক্ষা হবে।
  • ব্যাটে আগে লাগলে এলবিডব্লিউ আবেদন বাতিল হবে।
  • ডিআরএসে নো-বল পরীক্ষা সাধারণত বল-ট্র্যাকিংয়ের আগেই দেখা হয়।

শুনুন—এই অংশটাই আসল: অনেক সময় রিপ্লেতে প্যাডের আঘাত স্পষ্ট দেখা গেলেও নো-বল লাইনের কারণে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। তাই শুধু বল কোথায় লেগেছে দেখলে হবে না; বোলারের সামনের পা কোথায় ছিল, সেটিও দেখতে হবে। নো-বল ও ফ্রি-হিট বোঝার সহজ ব্যাখ্যা

ধাপ ২: বলটি ব্যাটে আগে লাগল কি না কীভাবে বুঝবেন?

বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে স্পর্শ করলে সাধারণত এলবিডব্লিউ হয় না, এমনকি পরে বলটি নিশ্চিতভাবে স্টাম্পে লাগত বলেও প্রযুক্তি দেখাক। ব্যাটের প্রান্ত, ব্যাটের নিচের অংশ, গ্লাভসের সঙ্গে ধরা ব্যাট এবং প্যাডের কাছাকাছি ক্ষীণ স্পর্শ—সবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ডিআরএসের আল্ট্রা-এজ বা স্নিকোমিটার শব্দ ও গতিপথের পরিবর্তন দেখে ব্যাটে আগে স্পর্শের সম্ভাবনা যাচাই করতে সাহায্য করে।

তবে প্রযুক্তির প্রতিটি সংকেতকে একইভাবে পড়া যায় না। বল ও ব্যাটের দূরত্ব, শব্দের সময়, ব্যাটের নড়াচড়া এবং প্যাডে আঘাতের মুহূর্ত একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। আইসিসি-র ডিআরএস প্রক্রিয়ায় তৃতীয় আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত, হটস্পট বা আল্ট্রা-এজ এবং বল-ট্র্যাকিং ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা করেন। ব্যাটসম্যান শট খেলতে গিয়ে ব্যাট সামনে আনলেও ব্যাটে স্পর্শ না হলে সেটি “ব্যাটে আগে লেগেছে” বলে গণ্য হবে না।

এই সূক্ষ্ম জায়গায় তিনটি ভুল বেশি দেখা যায়:

  1. ব্যাটের ছায়া বা প্যাডের শব্দকে ব্যাট-স্পর্শ মনে করা।
  2. ব্যাট ও প্যাড প্রায় একই সময়ে বলের পথে আসলে ক্রমটি উপেক্ষা করা।
  3. আল্ট্রা-এজে ক্ষুদ্র সংকেত দেখেই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়া।

প্রযুক্তি সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করে, কিন্তু আম্পায়ারের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় করে না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসি—তিন সংস্থার ডিআরএস প্রোটোকলে ধারাবাহিক ভিজ্যুয়াল পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই কাছাকাছি এলবিডব্লিউয়ে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা দর্শকের কাছে দীর্ঘ মনে হয়।

ব্যাট-প্যাডের সূক্ষ্ম পার্থক্য নিয়ে আরও বিশ্লেষণ দেখতে চাইলে এই নির্দেশিকাটি দেখুন।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেখুন

ডিআরএস কক্ষে তৃতীয় আম্পায়ার ব্যাট-প্যাডের রিপ্লে ও আল্ট্রা-এজ গ্রাফ দেখছেন

ধাপ ৩: বল কোথায় পিচ করেছিল, তা কি আউট নির্ধারণ করে?

হ্যাঁ, বল কোথায় পিচ করেছে তা এলবিডব্লিউয়ের অন্যতম কঠোর শর্ত। বল লেগ স্টাম্পের বাইরের অংশে পিচ করলে সাধারণত এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না, কারণ ব্যাটসম্যানকে লেগ সাইডের বাইরে বল থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। কিন্তু বল অফ স্টাম্পের বাইরে, মাঝখানে বা স্টাম্পের লাইনে পিচ করতে পারে; এসব অবস্থায় প্যাডে আঘাত ও বলের সম্ভাব্য গতিপথের পরবর্তী শর্তগুলো পরীক্ষা করা হয়।

“উইকেটের লাইনে পিচ” কথাটি একটু সতর্কভাবে বুঝতে হবে। বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলেও ব্যাটসম্যান যদি কোনো শট না খেলেন, তাহলে পরবর্তী শর্ত পূরণ হলে এলবিডব্লিউ হতে পারে। অন্যদিকে ব্যাটসম্যান শট খেলেছেন কি না, সেটি আইন ৩৬-এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম নির্ধারণ করে। এখানেই দর্শকদের পুরোনো ধারণা ভেঙে যায়—সব অফ-স্টাম্পের বাইরের বল এলবিডব্লিউ থেকে নিরাপদ নয়।

পিচের স্থান বিচার করার সময় বল-ট্র্যাকিং সাধারণত তিনটি রঙিন অঞ্চল দেখায়:

  • উইকেটের বাইরে পিচ: এলবিডব্লিউয়ের সম্ভাবনা থাকে না।
  • উইকেটের লাইনে পিচ: অন্য শর্ত পূরণ হলে সিদ্ধান্ত সম্ভব।
  • অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ: শট খেলা বা না-খেলার ওপর ফল নির্ভর করতে পারে।

২০০৯ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের ব্যবহার বাড়লেও বল-ট্র্যাকিং একটি পূর্বাভাস, ক্যামেরায় ধরা সরাসরি ফল নয়। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইনসমূহ বলের সম্ভাব্য পথ এবং উইকেটের অবস্থানকে আইনি কাঠামোর মধ্যে ব্যাখ্যা করে। তথ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো, বল স্টাম্পে কতটা লাগত—শুধু “স্টাম্পের দিকে যাচ্ছিল” বললেই যথেষ্ট নয়; বলের পুরো ভবিষ্যৎ পথ অনুমান করতে হয়।

ধাপ ৪: প্যাডে আঘাতের স্থান ও ব্যাটসম্যানের শট কীভাবে বিচার করবেন?

প্যাডে বল লাগার সময় ব্যাটসম্যানের শরীর কোথায় ছিল এবং তিনি সত্যিই শট খেলেছিলেন কি না—এই দুই প্রশ্ন এলবিডব্লিউয়ের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ। বল স্টাম্পে লাগত, এমন সম্ভাবনা থাকলেও আঘাতটি উইকেটের লাইনের বাইরে হলে আউট নাও হতে পারে। তবে ব্যাটসম্যান শট খেলেননি এবং বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে প্যাডে লাগলে, আইন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এলবিডব্লিউ অনুমোদন করে।

শটের সংজ্ঞা শুধু ব্যাট সামনে বাড়ানো নয়। ব্যাটসম্যানের উদ্দেশ্য, ব্যাটের গতিবিধি, পায়ের নড়াচড়া এবং বলের লাইনে খেলার চেষ্টা—সব মিলিয়ে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নেন। সুইপ, রিভার্স সুইপ, প্যাডেল, ডিফেন্স এবং ব্যাট ছেড়ে দেওয়া—প্রতিটি ভঙ্গির আইনি মূল্য এক নয়। বিশেষ করে সুইপ শটে ব্যাটসম্যানের শরীর লেগ সাইডে চলে গেলে আঘাতের বিন্দু এবং বলের সম্ভাব্য পথ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

এখানে একটি ব্যবহারিক যাচাই তালিকা কাজে লাগে:

  1. বল পিচ করার সময় ব্যাটসম্যানের পা কোথায় ছিল?
  2. প্যাডে আঘাতের মুহূর্তে বল স্টাম্পের সামনে ছিল কি?
  3. ব্যাটসম্যান ব্যাট দিয়ে বল খেলার চেষ্টা করেছিলেন কি?
  4. ব্যাটের পরিবর্তে শরীর ইচ্ছাকৃতভাবে বলের পথে আনা হয়েছিল কি?
  5. বলের অনুমানিক পথ তিনটি স্টাম্পের কোনো অংশে আঘাত করত কি?

বোলিং বিশ্লেষণ-এর ম্যাচ পর্যালোচনায় তাই শুধু “আম্পায়ার ভুল” লেখা যথেষ্ট নয়। কোন শর্ত পূরণ হয়নি, সেটি আলাদা করে দেখাতে হয়। স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে সুইপ শটের কৌশল এই বিষয়টি ব্যাটসম্যান, বোলার এবং ম্যাচের সম্ভাব্য ফল—তিনটিকেই প্রভাবিত করে।

এলবিডব্লিউ আপিলের মুহূর্তে ব্যাটসম্যান স্থির, বোলার হাত তুলেছেন, আম্পায়ার সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন

ধাপ ৫: সিদ্ধান্ত যাচাই ও ডিআরএস কীভাবে ব্যবহার করবেন?

এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের সঠিক ক্রম হলো—প্রথমে নো-বল, তারপর ব্যাটে স্পর্শ, এরপর পিচের স্থান, আঘাতের স্থান এবং সবশেষে বলের অনুমানিক পথ। ডিআরএসে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলাতে হলে প্রযুক্তির প্রমাণকে সিদ্ধান্তের সীমার বাইরে যেতে হয়; শুধু সামান্য সন্দেহ থাকলেই সিদ্ধান্ত বদলায় না। এই নীতিই আম্পায়ার্স কল নামে পরিচিত।

ডিআরএস পর্যালোচনায় সাধারণত কয়েকটি স্তর দেখা হয়:

  • সামনের পা ও নো-বল পরীক্ষা।
  • বল ব্যাটে আগে লেগেছিল কি না।
  • বল পিচ করার স্থান।
  • প্যাডে আঘাতের বিন্দু।
  • বল স্টাম্পে লাগার সম্ভাব্য পথ।

বল-ট্র্যাকিংয়ে “অ্যাম্পায়ার্স কল” দেখালে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, কারণ প্রযুক্তিগত পূর্বাভাসের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। এটি দর্শকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, বিশেষ করে বল স্টাম্পের প্রান্ত ছুঁয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে; কিন্তু একই সীমা ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ডিআরএস ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রযুক্তি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সহায়তা করে, প্রতিটি সিদ্ধান্তের একমাত্র মালিক হয় না।

শুনুন—এই অংশটাই আসল: এলবিডব্লিউ বিশ্লেষণে “বল স্টাম্পে লাগত” কথাটি শেষ ধাপ, প্রথম ধাপ নয়। প্রথম পাঁচটি পরীক্ষা বাদ দিয়ে সরাসরি বল-ট্র্যাকিং দেখলে ভুল ব্যাখ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ম্যাচের স্কোরকার্ডে এলবিডব্লিউ লেখা থাকলেও সিদ্ধান্তের কারণ বোঝার জন্য রিপ্লের ক্রমটি অনুসরণ করুন।

এই যাচাই পদ্ধতি দিয়ে ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঠান্ডা মাথায় পড়া যায়।

নিয়মের সারাংশ দেখুন

সাধারণ ভুল হলে কীভাবে ঠিক করবেন?

এলবিডব্লিউ নিয়ে সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো প্যাডে বল লাগাকে একমাত্র প্রমাণ ধরা, নো-বল উপেক্ষা করা এবং অফ-স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলকে সব পরিস্থিতিতে নিরাপদ মনে করা। এই তিনটি ধারণা সংশোধন করতে হলে রিপ্লে একই ক্রমে দেখতে হবে: সামনের পা, ব্যাটের সংস্পর্শ, পিচ, আঘাত এবং স্টাম্পের সম্ভাব্য পথ। গবেষণাধর্মী ম্যাচ বিশ্লেষণে আবেগ নয়, প্রমাণের স্তর আলাদা করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আরও দুটি সূক্ষ্ম বিষয় খেয়াল করা যায়। প্রথমত, বল প্যাডে লাগার পর ব্যাটসম্যানের শরীরের অবস্থান নয়, আঘাতের মুহূর্তে বল ও উইকেটের সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ; শটের পরে শরীর সরে গেলেও আগের বিন্দু বিচার করা হয়। দ্বিতীয়ত, ব্যাট-প্যাডের খুব কাছের ঘটনায় শব্দের সংকেত, ক্যামেরার ফ্রেম এবং বলের গতিপথের সময় একসঙ্গে মিলিয়ে না দেখলে ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে। এই কারণেই ডিআরএসের একটি মাত্র দৃশ্য দেখে চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়।

সমস্যা এড়ানোর জন্য নিম্নলিখিত তালিকা ব্যবহার করুন:

  • নো-বল সংকেত আগে দেখুন।
  • ব্যাটে প্রথম স্পর্শের প্রমাণ খুঁজুন।
  • পিচের অঞ্চল আলাদা করুন।
  • শট খেলার চেষ্টা ছিল কি না নির্ধারণ করুন।
  • আঘাতের স্থান স্টাম্পের লাইনে ছিল কি না দেখুন।
  • সবশেষে বল-ট্র্যাকিং ও আম্পায়ার্স কল বিবেচনা করুন।

ডিআরএস ও আম্পায়ার্স কলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ক্রিকেটে পুরোনো দিনের চোখের আন্দাজ এখনও মূল্যবান, কিন্তু আইসিসি, মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব এবং আধুনিক সম্প্রচারের প্রযুক্তি দেখিয়েছে—প্রতিটি এলবিডব্লিউ আসলে ধারাবাহিক প্রমাণের একটি শৃঙ্খল। বোলিং বিশ্লেষণ-এর পাঠকদের জন্য এটাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্তের পদ্ধতি।

স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় এলবিডব্লিউ বল-ট্র্যাকিং দেখা যাচ্ছে, দর্শকরা নীরবে ফল অপেক্ষা করছেন

এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের দ্রুত সারাংশ

  • নো-বল হলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না।
  • বল ব্যাটে আগে লাগলে এলবিডব্লিউ নয়।
  • লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউ নয়।
  • অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল শট না খেললে নির্দিষ্ট শর্তে এলবিডব্লিউ হতে পারে।
  • প্যাডে আঘাতের স্থান স্টাম্পের লাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
  • বল স্টাম্পে লাগত কি না, সেটি শেষ ধাপে দেখা হয়।
  • ডিআরএসে অ্যাম্পায়ার্স কল হলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
  • আইন ৩৬-এর ব্যাখ্যা ছাড়া শুধু রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বোঝা যায় না।

এলবিডব্লিউ বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘটনাকে একটি পূর্ণ বাক্য হিসেবে পড়া: বৈধ বল, ব্যাটে আগে স্পর্শ নয়, গ্রহণযোগ্য পিচ, আইনি আঘাত এবং স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা—এই পাঁচটি স্তর একসঙ্গে থাকলেই আউটের ভিত্তি শক্ত হয়। কোনো একটি স্তর ভেঙে গেলে আপিল ব্যর্থ হতে পারে। ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই; একটি ক্ষণিকের প্যাড-আঘাতের ভেতরেও আইন, জ্যামিতি, প্রযুক্তি এবং আম্পায়ারের বিচার একসঙ্গে কাজ করে।

বোলিং বিশ্লেষণ নিয়মিত ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান, বিপিএল কভারেজ এবং ব্যাটিং-বোলিং কৌশল নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে। সিদ্ধান্তের আগে আইন ৩৬ মিলিয়ে দেখলে বিতর্ক কমে এবং খেলার আসল সূক্ষ্মতা আরও স্পষ্ট হয়।

আরও ক্রিকেটভিত্তিক নিয়ম, পরিসংখ্যান ও কৌশল জানতে এখনই পরবর্তী বিশ্লেষণ পড়ুন।

পরবর্তী বিশ্লেষণ পড়ুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ কী?

উত্তর: এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে বৈধ বল ব্যাটে আগে না লেগে ব্যাটসম্যানের প্যাড বা শরীরে আঘাত করে এবং আম্পায়ারের বিচারে বলটি স্টাম্পে লাগত। এর সঙ্গে বলের পিচ, আঘাতের স্থান ও শট খেলার বিষয় যুক্ত থাকে। ক্রিকেট আইন ৩৬ এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি। শুধু প্যাডে বল লাগলেই ব্যাটসম্যান আউট হন না।

প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ হওয়ার পাঁচটি ধাপ কী?

উত্তর: প্রথমে নো-বল পরীক্ষা, তারপর ব্যাটে আগে স্পর্শ, পিচের স্থান, আঘাতের স্থান এবং স্টাম্পে লাগার সম্ভাব্য পথ যাচাই করতে হয়। এই ক্রমে সিদ্ধান্ত নিলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো শর্ত বাদ পড়ে না। ডিআরএসেও প্রায় একই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়। স্কোরবোর্ডের সিদ্ধান্ত বোঝার সময় এই পাঁচটি প্রশ্ন লিখে মিলিয়ে দেখা কার্যকর।

প্রশ্ন: লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে কি এলবিডব্লিউ হয়?

উত্তর: সাধারণ নিয়মে লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে এলবিডব্লিউ হয় না। কারণ ব্যাটসম্যানকে লেগ সাইডের বাইরে পিচ করা বল থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। বল পরে স্টাম্পের দিকে বাঁক নিলেও পিচের স্থান বদলে যায় না। তাই রিপ্লেতে প্রথম বাউন্সের বিন্দু দেখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রশ্ন: অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে কখন এলবিডব্লিউ হতে পারে?

উত্তর: ব্যাটসম্যান শট না খেললে অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে এলবিডব্লিউ হতে পারে। বলকে বৈধ হতে হবে, ব্যাটে আগে লাগা যাবে না, আঘাতটি আইনি লাইনে হতে হবে এবং বল স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা থাকতে হবে। ব্যাটসম্যান যদি সত্যিই শট খেলেন, তখন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে। এই কারণেই আম্পায়ার ও ডিআরএস শটের ধরনও পরীক্ষা করেন।

প্রশ্ন: নো-বলে কি এলবিডব্লিউ দেওয়া যায়?

উত্তর: নো-বলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না। বোলারের সামনের পা ক্রিজের বাইরে পড়া বা অন্য কোনো নো-বল কারণে ডেলিভারি অবৈধ হলে প্যাডে আঘাত লাগলেও ব্যাটসম্যান এলবিডব্লিউ হন না। আম্পায়ার সাধারণত প্রথমে নো-বল সংকেত নিশ্চিত করেন। ডিআরএস পর্যালোচনায়ও নো-বল পরীক্ষা প্রাথমিক ধাপগুলোর একটি।

প্রশ্ন: ডিআরএসে অ্যাম্পায়ার্স কল কেন বহাল থাকে?

উত্তর: অ্যাম্পায়ার্স কল দেখালে মাঠের আম্পায়ারের মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, কারণ বল-ট্র্যাকিং একটি প্রযুক্তিগত পূর্বাভাস এবং তার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। স্টাম্পের প্রান্তে বলের সম্ভাব্য আঘাত নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে এই নীতি প্রযোজ্য হয়। ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়ের ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়। তাই অ্যাম্পায়ার্স কলকে প্রযুক্তির ব্যর্থতা না বলে সিদ্ধান্তের সীমা হিসেবে বোঝা উচিত।

প্রশ্ন: আম্পায়ার এলবিডব্লিউ না দিলে কীভাবে আপিল করবেন?

উত্তর: অধিনায়ক নির্ধারিত ডিআরএস সময়সীমার মধ্যে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার আবেদন করতে পারেন। এরপর তৃতীয় আম্পায়ার নো-বল, ব্যাটে স্পর্শ, পিচ, আঘাত ও বলের পথ পরীক্ষা করেন। প্রযুক্তি স্পষ্ট ভুল দেখালে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, কিন্তু অ্যাম্পায়ার্স কল হলে মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। দলের আবেদন ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সীমিত ডিআরএস নষ্ট হলে পরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ